১০ টি উপায়ে জীবনকে সহজ করে তুলুন!

 "অভ্যাস হোক ভালো,  কর্মে ধরবে সাফল্য"

জীবন কিভাবে সুন্দর করা যায়?

জীবনকে সহজ করার উপায় খুব কঠিন না। খুব সহজে অল্প কিছু অভ্যাস তৈরির মাধ্যমে, আমাদের কাজগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারি যা আমাদের মানসিক প্রশান্তি এনে দিবে।

ব্যস্ত জীবনের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোর মধ্যেই আমাদের কর্ম জীবনকে গতি এনে দিবে এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুনঃ শরীর ও মনের সুস্থতায় যোগব্যায়ামের ৬ টি সুবিধা

পেশাগত সাফল্য পেতে হলে নিজের মধ্যে নিজের প্রয়োজন মতো অভ্যাসগুলো গুছিয়ে নিতে হবে। আমরা চাইলে নিজের মধ্যে খুব সহজ  দশটি অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।

 অভ্যাস হোক ভালো,  কর্মে ধরবে সাফল্য

স্বাস্থ্যগত অভ্যাসের পাশাপাশি কর্ম জীবনের অভ্যাস না আনলে আপনি সাফল্যের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না।

সাফল্যের জন্য স্বতন্ত্র ভাবে কর্ম জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য ১০ টি অভ্যাস উল্লেখ্য করা হলো যা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার জন্য সহায়ক হবে।

১। প্রজেটিভ চিন্তা

জীবনকে সহজ করার উপায় হল কাজে কর্মে ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করা। আমাদের দেহ ও মনের একটা দূরত্ব আছে। তার পরেও একটা বিশাল দূরত্ব থেকে যায় সমাজের চিন্তা ধারণা থেকে।

এই দুইটা কারণে আপনি অনেক বেশি পরিমাণে হতাশ হয়ে থাকেন।  

এই হতাশা গুলো কাটিয়ে আপনাকে কর্ম স্থানে ভালো করতে হবে।  সে জন্য আপনাকে সব সময় প্রজেটিভ চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আপনার জায়গা থেকে চেষ্টা করতে হবে নেকেটিভ চিন্তা বর্জন করার। আর আপনি যখন যে জিনিস পাচ্ছেন সেটাকে নিয়ে এগিয়ে যান।  সুচিন্তা সুস্থ রাখবে আপনার কর্ম জীবনের থাপগুলোকে।

২। গোছানো সময়ে কাজ করা

সময়ের স্রোতে বাধ দেওয়া যায় না।  কিন্তু আপনার স্রোতটাকে আপনার প্রয়োজন মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালার মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।  

এই জন্য থাকা দরকার সময় জ্ঞান। জীবনকে সহজ করার উপায় এর মধ্যে এই অভ্যাসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আপনাকে সুস্পষ্ট অভ্যাসের মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগাতে হবে। আপনি এক প্রান্তে মাঝে সময় আর সাফল্য অন্য প্রান্তে।  আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কত সময়ের মধ্যে সাফল্যের কাছে পৌঁছাতে চান।

আপনি চাইলে নিচের পয়েন্ট গুলো লক্ষ্য করতে পারেন –

  • আপনি আজ কোন সময় কি কাজ করবেন তা নোট করে নিতে পারেন বা মস্তিস্কে ছাপিয়ে নিতে পারেন।
  • আপনি যে সময়টাই নিজেকে বেশি ক্লান্ত অনুভব করেন, সেই সময় হালকা কাজ করেন।  অন্যথায় ভারি কাজগুলো প্রাণবন্ত সময়ে করুন। যাতে করে যেন আপনার সময় নষ্ট হবার আনুপাতিক হার কমে আসবে।
  • সব জায়গায় অন্তত ১৫ মিনিট আগে পৌঁছানোর অভ্যাস করবেন। কোন কাজ শুরু করার আগে আপনার মানুষিক প্রশান্তির প্রয়োজন আছে।
  • যে কোন কাজ বেঁধে নেওয়া সময়ের মধ্যে করতে হবে। দেরিতে কাজ অসম্পূর্ণ করার অভ্যাস আপনার অসম্পূর্ণ প্রাপ্তির বোঝা বাড়িয়ে দিবে।

৩। মনোযোগ

আপনার পরিশ্রম করছেন, শরীরির থেকে ঘামের নোনা পানি বেয়ে পড়ছে।  দিন শেষে দেখলেন আপনার যে কাজটি করেছেন সেটা ত্রুটি পূর্ণ।  এতে করে আপনার অমনোযোগিতার কারণে আপনার কর্ম দক্ষতা থাকলেও তেমন কোনো কাজে আসবে না।

সেই জন্য আপনি যখন যে কাজ করছেন সে কাজগুলোতে পূর্ণ মনোযোগ আনতে হবে। আপনার জন্য ভালো হবে আপনি একটি কাজ করার সময় একাধিক কাজ এড়িয়ে চলবেন।

মন সব কিছু করতে চাইবে, কিন্তু আপনি করবেন একটি কাজ। জীবনকে সহজ করার উপায় হল একনিষ্ঠ মনোযোগ।

৪। কমিউনিকেশন

গ্লোবাল ভিলেজ বা নেটওয়ার্ক এখন সব ধরনের কমিউনিকেশনের সহজ পদ্ধতি।

আপনাকে সব সময় নতুন নতুন কমিউনিকেশন পদ্ধতির সাথে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে এবং তার পাশাপাশি পুরনো গুলোর অভ্যাস ধরে রাখাটাও জরুরি।  

স্থান অনুযায়ী কমিউনিকেশন পরিবর্তন করতে হয়।  সে জন্য আপনার উচিত হবে স্পষ্ট ভাষা ও কমিউনিকেশনে দক্ষতা আনা এবং প্রতিনিয়ত কমিউনিকেশনের উন্নয়নে কাজ করা।

মৌখিক কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে আপনার ভাষা স্পষ্ট রাখার অভ্যাস আনতে হবে। প্রতিটি শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

আপনার শব্দ গুলো স্পষ্ট না হলে উচ্চারিত শব্দ বিকৃতি হয়ে কর্মস্থলে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। বোধগম্য ভাষা রপ্ত করার অভ্যাস তৈরি করুন।

৫। দৈনিক উদ্ভাবনী অভ্যাস

সপ্ত বীজ হলে অঙ্করতার সাফল্য পাওয়া যাবে না। বীজকে গায়ের শক্ত  আবরণ ছেদ করে অঙ্করিত হতে হয়। আপনার মস্তিষ্কের শক্ত অংশের ভেতরে যেটা আছে দৈনিক উদ্ভাবনী অভ্যাসের মধ্যে আনতে হবে প্রতিদিন কোন কিছু উদ্ভাবন করার চিন্তা করুন হোক সেটা ছোট বা বৃহৎ।

নিয়মিত উদ্ভাবন চিন্তা আপনার নতুন নতুন কর্ম দক্ষতা থেকে শুরু করে আপনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের সমাধান করে দিবে।

৬। নির্ভরযোগ্য

আপনি এখন যে শ্বাস টা নিচ্ছেন, পরবর্তী শ্বাস টা নিতে পারবেন এমন বিশ্বাস থাকা কে নির্ভর যোগ্যতা বলা যেতে পারে। এটাকে হয়তো আপনার উপর আপনার নির্ভর যোগ্যতার বহির প্রকাশ।

কিন্তু আপনি অন্য মানুষদের কাছে কতটা নির্ভরযোগ্য সে দিকটা খেয়াল রাখতে হবে। আপনার প্রতিটি কাজকে চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সম্পাদন করতে হবে। আপনার যদি নির্ভর যোগ্যতা লোপ পেতে থাকে। তাহলে আপনি কর্মস্থলে গ্রহণ যোগ্যতা হারাবেন।

সে জন্য আপনাকে চেষ্টা করতে হবে কর্মস্থল ছাড়াও সকল স্থানে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠা।  

৭। পরচর্চা পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা

জীবনকে সহজ করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি অনেক বেশি ইতিবাচক ভুমিকা রাখে। উনি কি করেছে, ও কি করবে, অন্য জন কি করে এই বিষয়গুলো বলা বা শোনা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে।

কারণ আপনি যখন অন্যদের নিয়ে ভাবছেন বা কিছু বলছেন এতে করে আপনি একটা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করছেন।

আপনাকে এই সব কিছু থেকে বিরত থাকার অভ্যাস করতে হবে। যেন আপনার সাথে কর্মরত সবাই আপনাকে ভালো চোখে দেখে।

৮। পূর্ব প্রস্তুতি

সব কিছু সময়ের সাথে পরিচালনা করতে গেলে আপনাকে পূর্ব প্রস্তুতি রাখতে হবে।  এই ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথম পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্বিতীয় একটা পরিকল্পনা রাখতে হবে।  

হুট হাট কিছু করা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে এবং পূর্ব প্রস্তুতি অনুসরণ করে আপনাকে নিখুঁত কার্য সম্পাদন করতে হবে।

৯। পোশাক পরিধান

পোশাক আমাদের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য দিয়ে থাকে। কর্মস্থলে পোশাক আপনার দ্বিতীয় অস্তিত্ব।  কারণ, পোশাক অনুযায়ী আমাদের পেশাগত  বৈচিত্র্য প্রকাশ পায়। সে জন্য আপনি যে পেশায় আছেন সেই পেশাদারী পোশাক পরিধানের অভ্যাস করুন।

সব সময় চেষ্টা করবেন পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা ও কর্মস্থলের ড্রেসকোড  মেনে কাজ করার। সাবলীল ও আপনি যে পোশাক পরে আরামদায়ক অনুভব করবেন এমন পোশাককে গুরুত্ব দিবেন।

১০। দৈনিক খাদ্যাভ্যাস

খাদ্যাভ্যাস ভালো না হলে উপরের উল্লেখিত কোন কাজ আপনি সুষ্ঠ ভাবে করতে পারবেন না। সুষ্ঠ কর্ম শক্তির জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য তালিকা।  

দৈনিক খাদ্যাভ্যাস যেন আপনাকে সম্পূর্ণ দিন কাজ করতে পূর্ণ  শক্তি দিয়ে থাকে এমন খাবার গ্রহণ করতে হবে।

খাবার গ্রহণের সময় যে বিষয়গুলো আপনার মাথায় রাখা দরকার-

  • আপনার শরীরে সহন শীল এমন খাবার গ্রহণ করবেন।
  • ভারি ও তৈলাক্ত খাবার  খাওয়া বর্জন করবেন।
  • এল্কাহল জাতীয়  পানীয় বর্জন করে সব সময় বিশুদ্ধ পানি পান করবেন।
  • সময় মতো খাবার খাওয়ার  চেষ্টা করবেন। দেরি করে খাবার খেলে আপনার শরীর কর্যক্ষমতা হারাতে থাকবে। যাতে করে আপনি দীর্ঘদিনের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

সকল প্রকার ভালো অভ্যাস আমাদের ভালো কিছু এনে দেয় এই বিষয়ে আমরা অবগত। কিন্তু এই অভ্যাসগুলোর প্রতি যে অনীহা সেটা আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। তাই জীবনকে সহজ করার উপায় গুলো আমদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

সুন্দর জীবনের প্রতি আমাদের যে আকর্ষণ,  সেটাকে পেতে হলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।  

কর্ম ক্ষেত্রে এই অভ্যাসগুলো আপনাকে সাফল্য এনে দিবে।  সাফল্য আপনার জন্য অপেক্ষা করে, আপনি শুধু পরিশ্রমের সাথে এগিয়ে যান।

Shimul Mirza
হ্যালো! আমি শিমুল মির্জা ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে পড়াশোনা করছি। আমি পড়াশোনা ছাড়াও ব্যক্তিগত বিকাশের ক্ষেত্রে লিখতে পছন্দ করি। আমি সর্বদা নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করি এবং নিজের জ্ঞানটি সবার কাছে ভাগ করে নিতে চাই।

JUST ADDED

More From The Author!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!