৫ টি সেরা টাইম ম্যানেজমেন্ট টিপস

টাইম ম্যানেজমেন্ট কি এবং কেন শিখবেন?

সহজ বাংলায় টাইম ম্যানেজমেন্টের অর্থ হচ্ছে “সময় ব্যবস্থাপনা”। আমাদের সময় সীমিত, তাই এটাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে হবে৷ যে কাজটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা আগে করতে হবে আর যেটা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সেটা পরে।

পুরো দিনের সময়টাকে ভিন্নভিন্ন কাজের জন্য বরাদ্দ করতে হবে এবং সেই সময়ের মাঝেই কাজ গুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রের মানুষ বিশেষত ছাত্রদের জন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনাদের মাঝে এমন কয়জন আছে যারা প্রত্যেকটা পরীক্ষায় ভালো করতে চান, সকল বিজনেস কম্পিটিশন জিততে চান, অসাধারণ একটা সোস্যাল লাইফ পেতে চান এবং পরিশেষে নিজের স্বপ্নের চাকরিটাও ছিনিয়ে নিতে চান?

সবই করা সম্ভব যদি সময়টাকে সঠিকভাবে, স্মার্টভাবে ব্যবহার করেন।

যখন আপনি সময়কে দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারবেন তখন আপনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন আর না করতে পারলে আপনি আত্মবিশ্বাস হারাবেন।

সময়ের মাঝে সব কাজ করতে পারলে সেটা আপনাকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখবে ও মানসিক চাপ দূর করবে। তাই টাইম ম্যানেজমেন্ট আপনাকে আরো আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে এবং নিজের জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম করবে।

সময় সবচেয়ে অমূল্য সম্পদের একটি। আপনার হাতে যতটা সময় থাকে একজন কোটিপতি ব্যবসায়ীর হাতেও ততটাই সময় থাকে।

তফাৎ একটাই যে তারা সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে। যে যতবেশি কার্যকরভাবে সময় ম্যানেজ করতে পারবে সে জীবনে তত সফল হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রফেশনাল ইমেইল লেখার A to Z নিয়ম কানুন

তাই সময় নষ্ট করা যাবে না। কাজের পিছে সময় ব্যয় করার পাশাপাশি আপনাকে নিজের পিছেও সময় ব্যয় করতে হবে। সঠিকভাবে সময়ের সু-ব্যবহার খুব কম লোকই করতে পারে কিন্তু যারা পারে তারা জীবনে সফল হয়।

তাই, আমরা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি ৫ টা বেষ্ট টিপস যা ছাত্রজীবনেই আপনাকে টাইম ম্যানেজমেন্ট আয়ত্ত করতে সাহায্য করবে।

১) পরিকল্পনা করুন

আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলোর ব্যাপারে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে, এবং চিন্তাভাবনা করে প্ল্যান বানাতে হবে। তারপর নিজের মাথাতে কল্পনা করুন যে কীভাবে সেটা কার্যকর করবেন।

একই কাজ বার বার করতে না চায়লে সব আগে আপনাকে ঠিকমতো সেটাকে প্ল্যান করতে হবে। কার্যকরী প্ল্যানের জন্য দরকার একটা “টু ডু লিস্ট”। কাজটা ঠিকমতো করার জন্য যা যা দরকার তার সবই এতে স্থান পাবে।

সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করুন তারপর ঠিক করুন কোনটা আগে করা দরকার আর কোনটা পরে। যদি আপনার সব কাজকে খাতায় নোট করে রাখতে পারেন তাহলে আপনার অর্ধেক লক্ষ্য সেখানেই অর্জন হয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে টু ডু লিস্ট হবে আপনার সবচেয়ে কাজের জিনিস আর সেটা তৈরি করাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

২) মনোযোগ নিবদ্ধ করুন এবং ঢিলেমি ছাড়ুন

ছাত্রদের জন্য মনোযোগ নিবন্ধ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা করার একটা উপায় হচ্ছে যে আপনাকে জানতে হবে কোন জিনিসটা আপনার মনোযোগ নষ্ট করে।

সেটা কি ফোন, সোস্যাল মিডিয়া নাকি বন্ধু? ছাত্রদের জন্য একটা নির্দিষ্ট কাজে নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া খুবই মুশকিল হতে পারে।

কোনো কাজ করতে গেলে মনে হয় “যায় না একটু ফেসবুকে, কোনো ম্যাসেজ এলো কিনা দেখে আসি। দুই সেকেন্ডের ব্যাপার।” কিন্তু আমরা জানি সেটা দুই সেকেন্ডে শেষ হয় না।

এভাবে অনেক মূল্যবান সময় আমরা নষ্ট করি। শেষে গিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয় না।

তাই যেসব জিনিস আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে, কাজ করার সময় সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। যখন অ্যাসাইনমেন্টটা করতে বসবেন তখন চেষ্টা করবেন ফোনটা বন্ধ রাখার যাতে কোনোকিছু আপনার মনোযোগ নষ্ট করতে না পারে।

তবে এটা মাথায় রাখুন যে, যেটা আপনার জন্য কাজ করে সেটা অন্যদের জন্য কাজ নাও করতে পারে। কেউ কেউ হয়তো একা পড়াশোনা করলেই ভালো রেজাল্ট করে।

আবার কারো কারো ক্ষেত্রে গ্রুপ স্ট্যাডি মোটিভেশান বাড়াতে ও পড়াটাকে উপভোগ্য করে তুলতে সাহায্য করে।

৩) সিডিউল প্রস্তুত করুন

সময় নষ্ট যাতে না হয় তার জন্য একটা টাইমটেবল প্রস্তুত করুন।

রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে পরের দিনের জন্য এটা করতে পারেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত সময় ঠিক করে রাখতে হবে। এটাই হবে আপনার প্রধান প্রায়োরিটি।

গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে আগে রাখুন এবং সেগুলোর পিছে বেশি সময় ব্যয় করুন।

এটি করার সবচেয়ে কঠিন অংশটা হচ্ছে যথাযথভাবে সিডিউলটা ফলো করা। তাই যদি সেটা করতে পারেন, তাহলে অন্য কাজগুলোও সহজেই করতে পারবেন।

৪) রিল্যাক্স করুন ও নিজেকে পুরষ্কৃত করুন

জীবনটা সহজ না। তাই জীবন নিয়ে ভাবা ও রিল্যাক্স করার জন্য কিছু সময় ব্যয় করতে হবে।

ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তা করি৷ মনকে ক্লান্তি, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দ্বারা পূর্ণ করে দিলে সেটা আপনাকে সামনে গিয়ে আরো অলস ও আনপ্রোডাক্টিভ করে তুলবে। কিন্তু একটা সাফ ও মনোযোগী মস্তিষ্ক আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

তাহলে নিজের মনকে চাঙ্গা রাখার জন্য কী করতে পারেন?

নিজের পছন্দের কাজগুলো করতে পারেন, যেমন বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া। নিজের জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার মানে এই নয় যে আপনাকে অসামাজিক হয়ে উঠতে হবে।

৫) শক্তিশালী রুটিন গড়ে তুলুন

অভ্যাস হচ্ছে খুব শক্তিশালী এক জিনিস। অভ্যাস যেমন গড়ে তোলা কঠিন তেমন এটা ত্যাগ করাও সহজ না। তাই আমাদের ভালো অভ্যাস গড়তে হবে। একই জিনিস নিয়মিত করলে সেটার পিছে আপনাকে কম শক্তি ব্যয় করতে হবে।

আপনার একাডেমিক কাজ গুলোকে সব উপরে রাখুন। যেটা আপনি নিয়মিত করবেন সেটাই রোজকার অভ্যাসে পরিণত হবে। অভ্যাস ও রুটিন ডেভলপ করার জন্য এই টাইম ম্যানেজমেন্ট কৌশলটা আয়ত্ত করে ফেলুন।

একমাত্র যে জিনিসটা আপনাকে একজন বিখ্যাত ব্যক্তির থেকে আলাদা করে সেটা হচ্ছে সময়ের স্মার্ট ব্যবহার। দিনের সকল কাজ করার পেছনে চাতুরতার সাথে কম এফোর্ট ব্যয় করাটাই হচ্ছে মূল চাবিকাঠি।

টাইম ম্যানেজমেন্ট আয়ত্ত করতে পারলে সেটা আপনাকে অন্যের থেকে এগিয়ে রাখবে।

তাহলে, কীসের অপেক্ষা করছেন? আপনার সময়ের সঠিক ব্যবহার আজ থেকেই শুরু করে দেন আর আপনার জানা কোনো কার্যকর টিপস থাকলে সেটা নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন!

Md. Tota Miahhttps://totamiah.com
লেখক বর্তমানে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি একজন গবেষক, ব্লগার, ফিটনেস, উচ্চতর পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিকাশের ক্ষেত্রে কাজ করেন। মোঃ তোতা মিয়া দেশের যুবসমাজকে কর্ম উপযোগী করে তোলার সপ্ন দেখেন।

JUST ADDED

More From The Author!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!