সিভিতে রেফারেন্স লেখার বিস্তারিত নিয়ম!

আপনি যদি একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট হন তাহলে এই আর্টিকেল পুরোটাই পড়া উচিত। কারণ সিভিতে রেফারেন্স নিয়ে এতো সহজ ও তথ্য বহুল লেখা খুব কম আছে। আসুন প্রথমেই জেনে নেই রেফারেন্স কি এবং কখন ও কেন দরকার আপনার জন্য। 

রেফারেন্স একটি নথি যা আপনার প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড বা তথ্য সরবরাহ করে।

আরও পড়ুনঃ

নিয়োগকারীরা এবং মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক নিয়োগের প্রক্রিয়ার সময় আপনার রেফারেন্স তালিকার দেয়া লোকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

এই মাধ্যমে তারা আপনার পেশাগত ইতিহাস, চাকরির পারফরম্যান্স এবং আপনি যে দক্ষতার অধিকারি সে সম্পর্কে জেনে থাকে। 

যদিও কিছু নিয়োগকর্তা আপনাকে আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে রেফারেন্স জমা দিতে বলতে পারেন, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফোন স্ক্রিনিং, সামনাসামনি সাক্ষাৎকারের পরে বা নিয়োগের প্রক্রিয়াতে চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে জিজ্ঞাসা করতে পারে।

যখন কোনও নিয়োগকর্তা রেফারেন্সের জন্য জিজ্ঞাসা করেন তখন আপনার কাজ হল কয়েকটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতির একটি তালিকা প্রস্তুত করা।

বেশিরভাগ কোম্পানি প্রার্থীর কাছ থেকে দুই বা তিনটি রেফারেন্স চাইবে। তাই সর্বদা কমপক্ষে তিনটি প্রস্তুত থাকার জন্য সর্বোত্তম।

কিছু নিয়োগকর্তা নির্দিষ্ট ধরনের রেফারেন্সের অনুরোধ করতে পারেন। কিন্তু সাধারণত আপনি প্রাক্তন ম্যানেজারদের (অথবা আপনার বর্তমান ম্যানেজার যদি তারা জানেন এবং আপনাকে সমর্থন করেন) এদের কে রেফারেন্স দিতে পারেন।

অথবা যদি না থাকে তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব প্রফেসরদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন তাদের রেফারেন্সে উল্লেখ করতে পারেন। 

সিভিতে রেফারেন্সর কি কাজ?

আপনার সিভিতে রেফারেন্স সেকশনে এমন লোকদের একটি তালিকা থাকতে হবে যারা আপনার পক্ষে নিশ্চয়তা তথ্য দিতে পারে এবং আপনার ভবিষ্যত নিয়োগকর্তাকে আপনার দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, গুনাবলি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রদান করতে পারে।

এর মধ্যে আপনার শিক্ষক, উপদেষ্টা, কোচ, সহকর্মী, পরিচিত নিয়োগকর্তা বা আপনার সরাসরি সুপারভাইসর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তারা জানে কিভাবে আপনি অতীতে আপনার দক্ষতা ব্যবহার করেছেন।

এ ছাড়া আপনার সিভিতে যোগ্যতা, চারিত্রিক দিক গুলো সম্পর্কে আরও জানতে পারেন। 

রেফারেন্সগুলি আপনার ভবিষ্যত নিয়োগকর্তাকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করে যে আপনি আপনার পূর্ববর্তী চাকরিতে বা আপনার একাডেমিক ক্যারিয়ার জুড়ে কেমন পারফর্ম করেছেন। তারা আপনাকে নিয়োগের আগে আপনার পেশাদার মনোভাব এবং যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। 

নিয়োগকর্তারা সাধারণত শুধুমাত্র আপনার রেফারেন্সের সাথে যোগাযোগ করেন যখন তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে পৌঁছান। 

আপনার সিভিতে রেফারেন্স কখন রাখা উচিত?

এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন যা অনেকেই জানতে চাই। কখন ও কাকে সিভিতে রেফারেন্স রাখব? 

সিভিতে নিজের কাজের কথা যাই থাকুক না কেন, অনেকের মাঝেই একটা ধারণা যে যত বড় রেফারেন্স ততই বুঝি ইন্টার্ভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেল।

কিন্তু সেটা সব সময় সঠিক নয়। সাধারণত রেফারেন্স বলতে আপনার কাজ কে বুঝায়। আরেকজনের নামে কখনও রেফারেন্স হয় না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সিভিতে রেফারেন্স রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।

কারণ এর জন্য একটি কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগ আছে এটা তাদের দায়িত্ব একজন চাকরি ক্যান্ডিডেটের ব্যাক গ্রাউন্ড চেক করা। তবে চূড়ান্ত ভাবে মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে তারা এটা অনেক জোর দিয়ে করে থাকে।

কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, সিভিতে রেফারেন্স দেয়া যেতে পারে। বিশেষ করে একজন ফ্রেশ ক্যান্ডিডেটের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আপনি যদি নিচ্চিত হতে চান কখন রেফারেন্স দেয়া উচিত তাহলে নিচের কারণ গুলো দেখে নিনঃ 

  • চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যদি রেফারেন্স চাওয়া হয়, আপনি খুব বেশি দ্বিধা ছাড়াই সিভিতে রেফারেন্স লিখবেন। 
  • যে কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করছেন যদি সেখানে সুপরিচিত কেউ আগে আর যদি সাক্ষাৎকারের শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে না চান তাহলে রেফারেন্স অবশ্যই দিবেন।
  • আপনি একজন ফ্রেশ স্নাতক। সম্ভবত আপনার পুরো সিভি পূরণ করার জন্য এখনও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই। তদুপরি, একজন ছাত্র হিসেবে আপনার এখনও ভাল কোন জানা শোনা নেই। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের রেফারেন্স কাজে লাগাতে পারেন। 
  • এ ছাড়া আপনি যদি দীর্ঘ দিন কর্মসংস্থানের বাইরে থাকেন কিন্তু এখন আবার নতুন ভাবে চাকরি করতে চান তাহলে রেফারেন্স ব্যবহার করতে পারেন। 

কিন্তু উপরের কোনটি যদি আপনার জন্য প্রযোজ্য না হয়, তাহলে তা করবেন না। এটি প্রত্যাশিত নয়। যে জন্য বেশ কয়েকটি কারণ আছে:

  • নিয়োগকারীদের কাছে তাদের প্রতিটি সিভির রেফারেন্স যাচাই করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই। তারা শুধুমাত্র চূড়ান্ত প্রার্থীদের রেফারেন্স চেক করবে।
  • আপনার রেফারেন্সগুলি আপনাকে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাকে তাদের যোগাযোগের তথ্য দিতে সম্মত হয়েছে। কারও সম্পর্কে তাদের রেফারেন্স পাঠিয়ে তাদের বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।
  • নিয়োগকারি বা মানব সম্পদ বিভাগের কাছে এ গুলো অপ্রয়োজনীয় হতোজুয়ে

আপনি যদি ছাত্র বা ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট হন তবে কার কাছে রেফারেন্স চাইবেন?

  1. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রফেসর কে রেফারেন্স হিসেবে দিতে পারেন কারন তারা আপনার ক্লাসে অংশগ্রহণ, আপনার পারফরম্যান্স বা আপনি টিমে কতটা ভাল কাজ করতে পারেন টার তথ্য দিতে পারবেন। 
  2. আপনি যদি কোন কোচ এবং প্রশিক্ষকের অধিনে কোন দক্ষতা অর্জন করে থাকেন তাহলে তারা আপনার নেতৃত্বের দক্ষতা বা অন্যদের সাথে কাজ করার দক্ষতার জন্য আপনার বিষয়ে সুপারিশ করতে পারেন।
  3. আপনার স্বেচ্ছাসেবক কাজ থেকে পরিচিতি। তারা সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য আপনার ইচ্ছা, প্রেরণা এবং দক্ষতার জন্য আপনাকে সমর্থন করতে পারে। এছাড়াও, স্বেচ্ছাসেবী প্রায় সবসময় চিত্তাকর্ষক।
  4. খণ্ডকালীন চাকরি বা ইন্টার্নশিপ থেকে যদি কোন সুপারভাইসর থাকে তাহলে তাদের নাম সিভিতে উল্লেখ করতে পারেন। কারণ, আপনার এই কাজগুলোর অভিজ্ঞতা, পারফরমেন্স সম্পর্কে তারা ভাল বলতে পারবেন। 

কিভাবে রেফারেন্সের জন্য জিজ্ঞাসা করবেন?

আমি আগেই বলেছি রেফারেন্স হিসেবে যাদের উল্লেখ করতে চান তাদের কমপক্ষে তিনটি তালিকা প্রস্তুত করা উচিত।

আপনার তালিকা করা শেষ কিন্তু কিভাবে রেফারেন্স চাইবেন? 

  • প্রথমত আপনি অনুমতি চাওয়ার জন্য এই ব্যক্তিদের প্রত্যেককে কল করুন। অথবা সম্ভব হলে তাদের সাথে দেখা করুন। আর এগুলো সম্ভব না হোলে ইমেল করুণ। তবে আমি সরাসরি সাক্ষাৎ করাটাকে বেশি প্রফেশনাল মনে করি। এতে করে আপনার আগ্রহ প্রকাশ পায়। 
  • দ্বিতীয়ত, সংক্ষিপ্তভাবে তাদের কে মনে করিয়ে দিতে ভুলবেন না যে কাজ গুলো আপনি তাদের সাথে  একসাথে কাজ করেছেন তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিবেন। এতে করে আপনি যে ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন রেফারিরা তা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
  • এছাড়াও, একটি সংযুক্তি হিসাবে তাদেরকে সিভির একটি অনুলিপি পাঠান। এটি তাদের সেই সময়গুলি স্মরণ করতে সাহায্য করবে যখন আপনি তাদের সাথে কাজ করছিলেন এবং তাদের আপনার অর্জন এবং ব্যক্তিত্বের কথা মনে করিয়ে দিবে।
  • সর্বশেষ আপনার ইমেলের শেষে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলবেন না। এছাড়াও, আপনার অনুরোধ বিবেচনা করার জন্য সময় নেওয়ার জন্য এবং আপনার আবেদন পর্যালোচনা করার জন্য আপনার রেফারেন্সগুলিকে ধন্যবাদ জানাবেন। 

সিভিতে রেফারেন্স লেখার নিয়ম

খুব সহজ কাজ এটি। সিভিতে আপনার রেফারেন্স অন্তর্ভুক্ত করার দুটি উপায় রয়েছে।

হয় আপনার রেফারেন্স সম্বন্ধে সম্পূর্ণ বিবরণ সিভির নিচে প্রদান করুন অথবা “অনুরোধের ভিত্তিতে যদি রেফারেন্স দিতে হয় তাহলে সেতা একটি লাইনে লিখে দিন। 

আপনি যদি সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আপনার রেফারেন্সগুলি ক্রমানুসারে তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করুন, যে ব্যক্তির সাথে আপনি সম্প্রতি কাজ করেছেন তার থেকে শুরু করে।

রেফারেন্সে কোন ধরনের  তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত তা এখানে তুলে ধরা হল:

  • নামঃ
  • পদবি
  • রেফারেন্স অবস্থান
  • রেফারেন্স কোম্পানি
  • রেফারেন্স ঠিকানা
  • রেফারেন্স ফোন নম্বর বা ইমেল ঠিকানা

এই তথ্য গুলো সাজিয়ে লিখলে এ রকম দেখাবে-

শেষ কথা

সিভি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট যা ইন্টারভিউ বোর্ডে কল পেতে ভুমিকা রাখে। তাই সিভিতে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

কেবলমাত্র সেই ব্যক্তিদের রেফারেন্স দিন যারা আপনার সম্পর্কে সুন্দর কিছু বলতে পারে। আপনি নিশ্চয়ই চান না যে কেউ আপনার চাকরির আবেদন নষ্ট করুক।

আপনার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রথমে রাখুন কারণ নিয়োগকর্তারা সম্ভবত আপনার তালিকার শীর্ষে থেকে কল শুরু করে থাকেন।

পরিশেষে, যদি আপনার টিম-ওয়ার্কের উপর জোর দেন বা নেটওয়ার্ক বাড়ান তাহলে ভাল রেফারেন্স পাওয়া সহজ হয়ে যায়। 

সিভিতে রেফারেন্স লেখার বিস্তারিত নিয়ম!
Md. Tota Miahhttps://totamiah.com
লেখক বর্তমানে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি একজন গবেষক, ব্লগার, ফিটনেস, উচ্চতর পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিকাশের ক্ষেত্রে কাজ করেন। মোঃ তোতা মিয়া দেশের যুবসমাজকে কর্ম উপযোগী করে তোলার সপ্ন দেখেন।

JUST ADDED

Related Posts

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.